তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, "আপনি সিগারেট খান কেন ?" তিনি প্রতিউত্তর করলেন, "এনজয় করি, তাই ।" উপস্থাপিকা বললেন, "কিন্তু আপনি তো জানেন, ধূমপান খারাপ । তারপরও কেন করেন ?" একটুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বললেন, "মানুষ তো অনেক সময় জেনে শুনেও খারাপ কিছু করে । ক্ষতিকারক জেনেও খায় । আমার ব্যাপারটাও অনেকটা ওরকম ।
যিনি উত্তর দিচ্ছিলেন, তিনি হচ্ছেন বাংলা চলচিত্রের এক কিংবদন্তী, এক অবিসংবাদিত অভিনয় গুরু, হুমায়ুন ফরিদি । প্রশ্ন করছিলেন মুনমুন । হুমায়ুন ফরিদির জন্মদিনে বাংলাভিশনে প্রচারিত "আমার আমি" নামক একটি অনুষ্ঠানে ।
অভিনয় দিয়ে সমস্ত মানুষের মন জয় করা চাট্টিখানি কথা নয় । কিন্তু সে কাজটি অবলীলায় করে দেখিয়েছেন ফরিদি । খলচরিত্রে অভিনয় করেও মানুষের মন জয় করতে পেরেছেন এমন অভিনেতা বাংলাদেশে হাতেগোনা যে কয়েকজন আছেন, তাদের মধ্যে হুমায়ুন ফরিদি অন্যতম । একজন অসাধারণ মানুষের হয়েও খুব সাধারণ জীবনযাপন, জীবন সম্পর্কে পরিষ্কার বোধ তাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে গিয়েছিল । নির্দ্বিধায় সবার সাথে মিশতে পারার গুণ সবার থাকেনা । হুমায়ুন ফরিদির সেই গুণ ছিল ।এসব কারণে অভিনেতা হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও হুমায়ুন ফরিদি ছিলেন সবার শ্রদ্ধার পাত্র । বলা যায়, একজন আইকন ।
নিজেই বলেছেন যে তার জীবন সম্বন্ধে অনেকের ভুল ধারণা আছে । সে ভুল ধারণা ভেঙ্গে দিতেও চেয়েছিলেন । বলেছিলেন "প্রেমে পড়া" জীবনের সব চেয়ে মধুর উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম । নিজেও স্বীকার করেছেন, জীবনে বহুবার প্রেমে পড়েছেন । জীবনের শেষ দিকেও প্রেমে পড়েছিলেন, কিন্তু সেটা প্রকাশ করতে চাননি । এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলেও বলেছিলেন হয়ত আমরা তাকে চিনি ।
বই পড়ার অনেক নেশা ছিল তার । কিংবদন্তীসম অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও অভিনয়ের বই পড়তেন সময় পেলে । খুব আনন্দের সময় গান গাওয়ার অভ্যাস থাকলেও, কবিতা আবৃত্তিও ভালোবাসতেন । জীবনানন্দ, রবীন্দ্রনাথের প্রতি আকর্ষণ ছিল ।
নায়ক হিসেবে কেন অভিনয় করেননি এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, "আমার চেহারা নায়কের মত না । অত সুন্দর না । ওরকম উঁচা লম্বাও না । তাই নায়কের চরিত্রে অভিনয় করিনি ।"
ইচ্ছাকৃত ভাবে খলচরিত্রে অভিনয় কেন করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, "খলচরিত্রে অভিনয় করলে যা খুশি তা করা যায় । কিন্তু নায়ক চরিত্রে অভিনয় করলে করা যায় না ।"
বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা । সে কারণে দেশের বহু জায়গা ঘুরেছেন । ১৯৬১ সালে দিলিপ কুমারের এক ছবি দেখছিলেন এক হলে । নায়কের আবির্ভাব হলে মানুষ হাততালি দিত, শিস বাজাত । এসব দেখে হুমায়ুন ফরিদির মাঝেও ইচ্ছে জাগে অভিনেতা হওয়ার ।
টিভিতে অভিনয় করতে করতে খ্যাতির চূড়ায় উঠলেও, স্রেফ টাকার জন্য চলচিত্রে অভিনয়ে নামেন । এ তার নিজের কথা । জীবনধারনের জন্য টাকার দরকার । আর সে জন্যই চলচিত্রে অভিনয় । অভিনয় ছাড়া আর কিছু পারতেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন এই অভিনয় গুরু ।
প্রাক্তন স্ত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা সম্পর্কে কোন মন্তব্য বা প্রশ্নের উত্তর দিতেও একেবারে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন । কিন্তু বোঝা গিয়েছিল, নিজেকে মৃত্যুর আগে বড় বেশি একা বোধ করেছিলেন এই দিকপাল অভিনেতা ।
মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং বরন করে নিতে বলতেন তিনি । তার মতে, জন্মিলে মরিতে হবেই । তাহলে এ অবশ্যম্ভাবীকে ভয় করে কি লাভ । মৃত্যুকে আনন্দের সাথে বরন করে নিতে বলতেন তিনি ।
আজ এই কিংবদন্তীর জন্মদিন ।
জয়তু হুমায়ুন ফরিদি ।
যেখানেই থাকুন না কেন, ভাল থাকুন ।
যিনি উত্তর দিচ্ছিলেন, তিনি হচ্ছেন বাংলা চলচিত্রের এক কিংবদন্তী, এক অবিসংবাদিত অভিনয় গুরু, হুমায়ুন ফরিদি । প্রশ্ন করছিলেন মুনমুন । হুমায়ুন ফরিদির জন্মদিনে বাংলাভিশনে প্রচারিত "আমার আমি" নামক একটি অনুষ্ঠানে ।
অভিনয় দিয়ে সমস্ত মানুষের মন জয় করা চাট্টিখানি কথা নয় । কিন্তু সে কাজটি অবলীলায় করে দেখিয়েছেন ফরিদি । খলচরিত্রে অভিনয় করেও মানুষের মন জয় করতে পেরেছেন এমন অভিনেতা বাংলাদেশে হাতেগোনা যে কয়েকজন আছেন, তাদের মধ্যে হুমায়ুন ফরিদি অন্যতম । একজন অসাধারণ মানুষের হয়েও খুব সাধারণ জীবনযাপন, জীবন সম্পর্কে পরিষ্কার বোধ তাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে গিয়েছিল । নির্দ্বিধায় সবার সাথে মিশতে পারার গুণ সবার থাকেনা । হুমায়ুন ফরিদির সেই গুণ ছিল ।এসব কারণে অভিনেতা হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও হুমায়ুন ফরিদি ছিলেন সবার শ্রদ্ধার পাত্র । বলা যায়, একজন আইকন ।
নিজেই বলেছেন যে তার জীবন সম্বন্ধে অনেকের ভুল ধারণা আছে । সে ভুল ধারণা ভেঙ্গে দিতেও চেয়েছিলেন । বলেছিলেন "প্রেমে পড়া" জীবনের সব চেয়ে মধুর উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম । নিজেও স্বীকার করেছেন, জীবনে বহুবার প্রেমে পড়েছেন । জীবনের শেষ দিকেও প্রেমে পড়েছিলেন, কিন্তু সেটা প্রকাশ করতে চাননি । এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলেও বলেছিলেন হয়ত আমরা তাকে চিনি ।
বই পড়ার অনেক নেশা ছিল তার । কিংবদন্তীসম অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও অভিনয়ের বই পড়তেন সময় পেলে । খুব আনন্দের সময় গান গাওয়ার অভ্যাস থাকলেও, কবিতা আবৃত্তিও ভালোবাসতেন । জীবনানন্দ, রবীন্দ্রনাথের প্রতি আকর্ষণ ছিল ।
নায়ক হিসেবে কেন অভিনয় করেননি এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, "আমার চেহারা নায়কের মত না । অত সুন্দর না । ওরকম উঁচা লম্বাও না । তাই নায়কের চরিত্রে অভিনয় করিনি ।"
ইচ্ছাকৃত ভাবে খলচরিত্রে অভিনয় কেন করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, "খলচরিত্রে অভিনয় করলে যা খুশি তা করা যায় । কিন্তু নায়ক চরিত্রে অভিনয় করলে করা যায় না ।"
বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা । সে কারণে দেশের বহু জায়গা ঘুরেছেন । ১৯৬১ সালে দিলিপ কুমারের এক ছবি দেখছিলেন এক হলে । নায়কের আবির্ভাব হলে মানুষ হাততালি দিত, শিস বাজাত । এসব দেখে হুমায়ুন ফরিদির মাঝেও ইচ্ছে জাগে অভিনেতা হওয়ার ।
টিভিতে অভিনয় করতে করতে খ্যাতির চূড়ায় উঠলেও, স্রেফ টাকার জন্য চলচিত্রে অভিনয়ে নামেন । এ তার নিজের কথা । জীবনধারনের জন্য টাকার দরকার । আর সে জন্যই চলচিত্রে অভিনয় । অভিনয় ছাড়া আর কিছু পারতেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন এই অভিনয় গুরু ।
প্রাক্তন স্ত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা সম্পর্কে কোন মন্তব্য বা প্রশ্নের উত্তর দিতেও একেবারে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন । কিন্তু বোঝা গিয়েছিল, নিজেকে মৃত্যুর আগে বড় বেশি একা বোধ করেছিলেন এই দিকপাল অভিনেতা ।
মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং বরন করে নিতে বলতেন তিনি । তার মতে, জন্মিলে মরিতে হবেই । তাহলে এ অবশ্যম্ভাবীকে ভয় করে কি লাভ । মৃত্যুকে আনন্দের সাথে বরন করে নিতে বলতেন তিনি ।
আজ এই কিংবদন্তীর জন্মদিন ।
জয়তু হুমায়ুন ফরিদি ।
যেখানেই থাকুন না কেন, ভাল থাকুন ।

No comments:
Post a Comment